পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান. পাবনা-জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ।

ময়মনসিংহ জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-

বাংলাদেশে অবস্থিত পাবনা-জেলা রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে।  এটি ২৩°৪৮′ হতে ২৪°৪৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০২′ হতে ৮৯°৫০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।  এর উত্তর দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা আর দক্ষিণে পদ্মা নদী একে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে।  এর পূর্ব প্রান্তদিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে এবং পশ্চিমে নাটোর জেলা।  পাব’নার আমিনপুর থানার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে এসে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে।

 

পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান

 

পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান:-

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসস লিমিটেড

স্কয়ারগ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। ১৯৫৮ সালে এরকার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৮ সনে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ঔষধ রপ্তানী শুরুকরে। ঔষধের কাঁচামাল তৈরীর জন্য পাবনায় স্কয়ার কেমিক্যাল ডিভিশন নামে নতুন একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৯০০১ঃ২০০৯ISO সনদ পত্র ছাড়াও MHRA UK Certificate অর্জন করেছে যা ইউরোপীয় ঔষধ রপ্তানীর জন্য গুরুত্ববহ। এছাড়া স্কয়ার ফার্মFDA Certificate অর্জনের পথে রয়েছে যার ফলে আমেরিকার বাজারে স্কয়ারের মোট কমীর সংখ্যা২৫০০০। স্কয়ার পাবনা তথা সমগ্র দেশের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইউনিভার্সাল লিমিটেড

১৯৬৭ সনে ইউনিভার্সাল ল্যাবরেটরিজ প্রথম প্রতিষ্টিত হয়। ১৯৯৮ সনেমালিকানার পরিবর্তন হওয়ার পর ২০০০ সনে ইউনিভার্সল ফুড লিমিটেড এবংইউনিভার্সল ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানী) একই সাথে যাত্রা শুরু করে। এইপ্রতিষ্ঠান গ্রুপের বর্তমান জনবল ১০০০। কিছু ফুড আইটেম সৌাদি আরবে এবংইন্ডিয়ারা রপ্তানী হয়েছে বলে জানা যায়।

বেঙ্গল মিটঃ

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গরু ও ছাগলের মাংস কিনে স্বয়ংক্রিয় প্রসেসে জবাই করেপ্যাকেট করে মাংস ঢাকায় এবং বিদেশে রপ্তানী করে। প্রতি দিনের উৎপাদন ২৫০০কেজি। বাংলাদেশে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান একটিই। এখানে শতাধিক লোকেরকর্মসংস্থান হয়েছে, অনেক লোক গরু এবং ছাগল পালনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

পাবনা সুগার মিল

ঈশ্বরদী উপজেলায় পাবনা সুগার মিল্স লিঃ নামে একটি চিনির কারখানা আছে। এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আখ থেকে চিনি তৈরী হয়।

পাবনা জেলাতে ক্ষুদ্র মাঝারী শিল্পের বহু উদ্যোক্তা রয়েছে। ওরিয়েনটেশন কোর্সের মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প গড়ে উঠলে বহু কর্ম সংস্থানের সৃষ্টিহবে।বন্ধ হয়ে যাওয়া পাবনার ক্যালিকো কটন মিলস, ঈশ্বরদী আলহাজ্ব^ টেক্সটাইলমিলস এবং নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল সরকারী ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে অর্থ বিনিয়োগ করতঃ মিল তিনটি পুনরায় চালু করা গেলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে।

ঈশ্বরদী ইপিজেড পুর্নাংগভাবে চালু করা দরকার। এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে গ্যাস সহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা রয়েছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডে গ্যাসসহ সকল সুবিধা বিদ্যমান আছে হেতু ঈশ্বরদী ইপিজেডে এগ্রোবেইজড ইন্ডাষ্ট্রিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ন্থাপন করা প্রয়োজন। তাছাড়াও যেহেতু উওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমান কৃষিজ পন্য উৎপাদিত হয়ে থাকে সেহেতু ঈশ্বরদী ইপিজেডে একটি সার কারখানা স্থাপন করা প্রয়োজন। পূর্বাঞ্চল থেকে সার আনতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে এবং কৃষিজ পন্যের মূল্য বৃদ্ধিপায়।

 

পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান

 

ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি চালু করা একান্ত প্রয়োজন। বিমান বন্দরটি চালু করলে দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ঈশ্বরদরী ইপিজেডে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন। নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপিত হলে বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পরিশেষে ঈশ্বরদী ইপিজেড ও ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি চালু করলে এবং হোসিয়ারী ; তাঁত ; ঔষধ ক্ষুদ্র মাঝারী ও আবাসন শিল্পসহ নানাবিধ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে ও ক্যালিকো কটন মিল এবং ঈশ্বরদী আলহাজ্ব টেক্টাইল মিল চালু করলে পাবনা জেলা শিল্পে আরো সমৃদ্ধশালী হবে। এতে করে পাবনা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে।

আরও পড়ুনঃ

২ thoughts on “পাবনা জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান”

Leave a Comment